বুধা প্রায়ই কাকতাড়ুয়া সাজত।
'আধা-পোড়া বাজারটার দিকে তাকিয়ে ওর চোখ লাল হতে থাকে।'- কারণ সেদিকে তাকিয়ে হানাদারদের প্রতি বুধার ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা বাড়তে থাকে। অন্যায় কিছু দেখলে বুধার খুব রাগ হয়। আর রাগ হলে তার চোখ লাল হতে থাকে। হানাদাররা একদিন হঠাৎ করে বুধাদের গ্রামে এলো। বাজারের অনেক মানুষকে গুলি করে মারল। অবশেষে আগুন দিয়ে বাজারটা পুড়িয়ে দিল। তারা যাওয়ার পর গ্রামের বাকি মানুষরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করল। বুধা নিজেও মাটির হাঁড়ি নিয়ে ডোবা থেকে পানি আনে। পাকিস্তানি হানাদারদের প্রতি ওর রাগ বাড়তে থাকে। ও মনে মনে ফুঁসতে থাকে। প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ওর বুকের ভেতর ঢুপচাপ শব্দ তোলে। একসময় আগুন নিভে গেলে আধা-পোড়া বাজারটার দিকে তাকিয়ে ওর চোখ লাল হতে থাকে।
সারকথা: হানাদাররা মানুষ হত্যা করে অবশেষে বাজারে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ অন্যায় দেখে বুধার খুব রাগ হয়। আর রেগে গেলেই বুধার চোখ লাল হতে থাকে।
কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধা অত্যন্ত কৌশলী কিশোর। তার এ চরিত্রের সঙ্গে উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদারের সাদৃশ্য রয়েছে।
শক্তি দিয়েই সবকিছু হয় না। পৃথিবীতে শক্তির চেয়ে বুদ্ধির মূল্য অনেক বেশি। শক্তি দিয়ে যে কাজ করা প্রায় অসম্ভব, বুদ্ধি দিয়ে তা সাধন করা খুব সহজ। বুদ্ধিমত্তার কারণেই মানুষ পৃথিবীর সেরা জীব। যারা বোকা, তারাই শক্তি দিয়ে কাজ সাধনের চেষ্টা করে। লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে।
উদ্দীপকে কলিমদ্দি দফাদারের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। পাকসেনারা থানায় ঘাঁটি স্থাপন করে। ফলে এলাকার সবাই পালাতে থাকে। তখন কলিমদ্দি দফাদার ভিন্ন পরিকল্পনা করেন। পাক হানাদারদের বুঝতে না দিয়ে তাদের দলের লোক হিসেবে অভিনয় করেন। এমন ভাব করেন যে, মনে হয় তিনি রাজাকারে যোগ দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে গোপনে তিনি যোগাযোগ রাখেন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। একদিন তিনি মিলিটারিদের ভাঙা পুলের সামনে নিয়ে আসেন। পুলে উঠে তিনি পানিতে ঝাঁপ দেন। আর সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে হানাদাররা খতম হয়ে যায়। 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসেও এমন কৌশল পাওয়া যায় বুধার চরিত্রে। বুধা শ্রমিকদের সঙ্গে বাঙ্কার বানাতে যায়। বাঙ্কার তৈরি করা মানে হানাদারদের শক্তি বেড়ে যাওয়া। বুধা সবার সঙ্গে বাঙ্কার তৈরির কাজ করে। তারপর মুক্তযোদ্ধা কমান্ডার শাহাবুদ্দিনের কথামতো সে বাঙ্কারের তলায় মাইন পুঁতে আসে। হানাদাররা বাঙ্কারে ঢুকে মাইনে পা দিতেই সব ধ্বংস হয়ে যায়। এভাবে উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদারের সঙ্গে 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধার মিল লক্ষ করা
সারকথা: 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের বুধ্য অত্যন্ত বুদ্ধিমান চরিত্র। কৌশলে সে। মুক্তিযুদ্ধে অনেক অবদান রাখে। উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদারও
কৌশলী চরিত্র। তার বুদ্ধির কারণে হানাদাররা ধ্বংস হয়।
না, উদ্দীপকটি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের সমগ্র ভাবকে ধারণ করে না। কারণ উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের একমাত্র দিক নয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের বুকে তান্ডব চালিয়েছিল, অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছিল। তারা ভেবেছিল বাংলার মানুষ
ভিতু। অস্ত্রের মুখে এরা ভয়ে পিছিয়ে যাবে। বাঙালি তাদের চিন্তাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিল। বাঙালিরা মহাপ্রতিরোধ গড়ে তোলে হানাদারদের বিরুদ্ধে। অবশেষে ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।
উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদার বুদ্ধিমান মানুষ, তার বুকভরা দেশপ্রেম। পাকিস্তানি হানাদাররা থানায় ঘাঁটি স্থাপন করায় এলাকায় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করে। তখন কলিমদ্দি দফাদার না পালিয়ে তাদের ঘায়েল করার কৌশল অবলম্বন করেন। হানাদারদের সঙ্গে থেকে তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। একদিন হানাদারদের তিনি গ্রামের পুলের কাছে নিয়ে যান এবং পুল পার হতে গিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী পানিতে ঝাঁপ দেন। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে সব হানাদার নিহত হয়। 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসেও এরূপ চরিত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই চরিত্রটি হলো বুদ্ধিমান কিশোর বুধা। সে পাগলের মতো আচরণ করে যাতে কেউ তাকে সন্দেহ করতে না পারে। রাজাকার কমান্ডার আর চেয়ারম্যানের বাড়িতে আগুন লাগায়। হানাদারদের ক্যাম্পের খবর সংগ্রহ করে, কাজের সুযোগে বাঙ্কারে মাইন পুঁতে হানাদারদের হত্যা করে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!